Thursday, April 28, 2016
Monday, February 29, 2016
বইমেলা এবং আমি!
আমি লেখালেখি খুব
একটা করি না। আর যদি করি তবে কোনো সম্পাদকই আমাকে পাত্তা দেয় না! মানে কেউই লেখা
ছাপতে চায় না আর কি! তাই বলে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র আমি নই। আশায় বুক আর নিরাশায়
মুখ ফুলিয়ে লিখেই চলেছি একের পর এক বাতিল লেখা। একদিন আমার বন্ধু রাসেল আইডিয়া দিল
লেখাগুলোকে আলোর মুখ দেখানোর জন্য। আইডিয়াটা হলো নিজের লেখাগুলোকে একসঙ্গে জড়ো করে
একটা বই বের করতে হবে। রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু কে ছাপবে আমার বই?
বড়ই টেনশনিত
ব্যাপার! সমাধানও পেয়ে গেলাম। নিজের লেখাগুলোকে স্ট্যাপলারের পিন মেরে মেরে তৈরি
করে ফেললাম আস্ত একটা পাণ্ডুলিপি। এরপর পাণ্ডুলিপি সমেত রওনা দিলাম বাংলাবাজারের
দিকে। শুনেছি সেখানে অনেক প্রকাশক নতুন লেখকদের বই বের করার জন্য আশায় বুক বেঁধে
রাখে। তাই তাদের আশার ওপর ভরসা রেখে পাণ্ডুলিপি নিয়ে হাজির হলাম বাংলাবাজারে।
কিন্তু হায়... এখানে এসে জানতে পারলাম, কোনো প্রকাশকই টাকা ছাড়া বই ছাপাবে না! তাই
আমার আশার গুড়ে এখন বালু পড়ার অবস্থা! অবশেষে এক প্রকাশককে অনেক বলে-কয়ে বিনা
পয়সায় একটা বই বের করতে রাজি করাতে পারলাম। প্রকাশকের হাতে পাণ্ডুলিপি তুলে দিয়ে
আমি নিশ্চিন্ত হলাম যে, এবারের বইমেলায় আমারও একটা বই থাকছে। অতএব আমার
নেক্সট স্টেপ হচ্ছে বইটা যেন চলে তার জন্য একটু আধটু প্রচার-প্রচারণা করা। ব্যস,
নেমে পড়লাম
প্রচারণার কাজে।
দেখতে দেখতে চলে এলো বইমেলা। আর এদিকে বই নিয়ে আমার প্রচারণা ছিল তুঙ্গে! শহরের মোড় থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা অলিগলিতেও নিজের বইয়ের পোস্টার, লিফলেট টানিয়ে দিলাম। আর পরিচিতদের হাতে তুলে দিতে লাগলাম বইয়ের সৌজন্যে একটা করে ক্যালেন্ডার একদম ফ্রিতে! এখন আমি নিজ এলাকার একজন টপ তারকাখ্যাতি সম্পন্ন লেখক। রাজনৈতিক নেতাদের মতো দেয়াল দখল করে পোস্টারিং করার কারণে আমার নাম আর ফেইস মহল্লার পোলাপান থেকে শুরু করে বুড়ো নানা-দাদারাও জানে। আর বন্ধুরা তো অলরেডি আমাকে লেখক ছাড়া অন্য কোনো নামে ডাকেই না! সেই সঙ্গে বন্ধুরা আশ্বস্ত করল যে, তারা সবাই আমার বইটা কিনবে। কিন্তু শর্ত হলো বই কেনার আগে সবাইকে একবেলা খাওয়াতে হবে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। ঠিক করলাম মেলায় যাওয়ার আগে সবাই মিলে একটা হোটেলে খাব অ্যান্ড দ্যান একসঙ্গে বইটা কিনব।
দেখতে দেখতে চলে এলো বইমেলা। আর এদিকে বই নিয়ে আমার প্রচারণা ছিল তুঙ্গে! শহরের মোড় থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা অলিগলিতেও নিজের বইয়ের পোস্টার, লিফলেট টানিয়ে দিলাম। আর পরিচিতদের হাতে তুলে দিতে লাগলাম বইয়ের সৌজন্যে একটা করে ক্যালেন্ডার একদম ফ্রিতে! এখন আমি নিজ এলাকার একজন টপ তারকাখ্যাতি সম্পন্ন লেখক। রাজনৈতিক নেতাদের মতো দেয়াল দখল করে পোস্টারিং করার কারণে আমার নাম আর ফেইস মহল্লার পোলাপান থেকে শুরু করে বুড়ো নানা-দাদারাও জানে। আর বন্ধুরা তো অলরেডি আমাকে লেখক ছাড়া অন্য কোনো নামে ডাকেই না! সেই সঙ্গে বন্ধুরা আশ্বস্ত করল যে, তারা সবাই আমার বইটা কিনবে। কিন্তু শর্ত হলো বই কেনার আগে সবাইকে একবেলা খাওয়াতে হবে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। ঠিক করলাম মেলায় যাওয়ার আগে সবাই মিলে একটা হোটেলে খাব অ্যান্ড দ্যান একসঙ্গে বইটা কিনব।
কথামতো বন্ধুরা সবাই একদিন চলে গেলাম বইমেলায়। প্রথমে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করলাম একটা রেস্টুরেন্টে। এরপর গেলাম বাংলা একাডেমিতে। বইমেলায় ঢুকে সরাসরি চলে গেলাম নিজের বই যে প্রকাশনী থেকে বের হওয়ার কথা তার স্টলে। সেখানে গিয়ে অনেক খুঁজেও ডিসপ্লেতে নিজের বইটা না পেয়ে অবশেষে সেলসম্যানদের হেল্প নিলাম। বইয়ের নাম বলতেই তারা স্টলের এক কোনা থেকে বইটা বের করে আনলেন। এরপর বইটা তুলে দিলাম সবার হাতে। বই হাতে পেয়ে বন্ধুরা সবাই প্রায় বিস্মিত! আর আমি বিস্মিত ওদের চেয়ে ডাবল! কারণ বইয়ে লেখকের জায়গায় আমার নামের বদলে ছিল অন্য আরেকটি নাম। আর সেই নামটি হলো প্রকাশকের নিজের!
লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: প্যাঁচআল, দৈনিক সমকাল
(২২ ফেব্রয়ারি ২০১৬)
Wednesday, November 25, 2015
এবার নিজেই হয়ে যান সংগীত শিল্পী!!!
গান
শুনতে কে না ভালোবাসে? তবে
গান গাইতে পারে এমন লোক খুব কমই আছে। কিন্তু
জীবনে একবারও গুণগুণিয়ে গান গায়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। তাহলে আর গুণগুণিয়ে নয়, এবার গান গাইতে ইচ্ছে করলে গাইতে
পারবেন একেবারে জনপ্রিয় শিল্পীদের মতোই! তাও আবার মিউজিক সহকারে! ভাবছেন কিভাবে?
আরে ভাই চিন্তা কিসের? ম্যা হু না! এক্ষুণি শিখিয়ে দিচ্ছি। এর জন্য আপনার দরকার
হবে একটি এন্ড্রোয়েড ফোন, ছোট্ট একটি রেকর্ডিং সফটওয়্যার, আর মোবাইলে
ইনস্টল করা যেকোনো একটি ভিডিও প্লেয়ারের। তো চলুন এবার মূল পোষ্টে চলে যাই...
প্রথমে
এই ভয়েস রেকর্ডারটি ডাউনলোড করে আপনার মোবাইলে ইনস্টল দিন। এরপর ডেমো হিসেবে
তৌসিফের দূরে কোথাও আছি বসে এই গানটি নামিয়ে নিতে পারেন। ব্যাস কাজ শেষ। এবার
ডাউনলোড করা ভিডিওটি আপনার মোবাইলের প্লে করুন। এক্ষেত্রে MX
Player হলে ভালো হয় আমি মনে করি। তো
ভিডিও ওপেন হলে সেটি Pause করে MX
Player টি মিনিমাইজ করে ফেলুন। এবার Smart Voice Recorder সফটওয়্যারটি ওপেন করুন। লাল
বৃত্ততে ক্লিক করে Record অন
করুন। এবার Smart Voice Recorder সফটওয়্যারটি
মিনিমাইজ করে দিয়ে MX Player টি
ওপেন করুন। আগের Pause করা
ভিডিওটি Resume বা Play
করুন। এবার মিউজিকের সাথে সাথে সুর,
তাল, লয় মিলিয়ে গান গাইতে থাকুন। গান গাওয়া শেষ হলে Smart
Voice Recorder টি ওপেন করে Finish ফিনিস চাপুন। এবার যে ফাইলটি রেকর্ড হলো সেটি Play
করুন। কি চমকে গেলেন তো নিজের কণ্ঠে
এতো সুন্দর গান শুনে? ব্যাস কাহিনী শেষ! এখন নিজেই শুনতে থাকুন নিজের গাওয়া দারুন
সব গান! পারলে বন্ধুদেরও শুনিয়ে অবাক করে দিতে পারেন!
টিপস
·
গুগলে সার্চ দিলে প্রায় অনেক গানেরই Karaoke অর্থ্যাৎ গানের কথা ছাড়া মিউজিক পাবেন। হিন্দী ও ইংরেজি গানের
মিউজিক আর লিরিক্স পেতে সহজ হলেও বাংলা গান পেতে একটু সমস্যা হবে। আর তাই যারা
পছন্দের গানের Karaoke পেতে হলে আপনার
নিজেকেই সেটি
তৈরি করে নিতে হতে পারে। এজন্য পিসি ইউজাররা গান ডাউনলোড করে Audacity সফটওয়্যারের মাধ্যমে গান থেকে ভোকাল বা কণ্ঠ রিমুভ করে নিতে
পারেন।
·
গুগল থেকে আপনার পছন্দের গানের রেডিমেট Karaoke সহজে খুঁজে পেতে গানের নাম লিখে শেষে Karaoke লিখতে ভুলবেন না। তাহলে সহজেই যেকোনো গানের মিউজিক সহ লিরিক
খুঁজে পেতে সহজ হবে। উদাহরন স্বরুপ আপনি যদি “পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে” এই
রবীন্দ্রসংগীতটি সার্চ করতে চান তবে লিখবেন Pagla Hawar Badol Dine
Song Karaoke With Lyrics এভাবে।
·
ভালো আউটপুট পেতে হলে গানের সুর, তাল, লয়
ঠিক রেখে গাইবেন। এজন্য মূল গানটি বেশ কয়েকবার শুনে দ্যান রেকর্ড করতে পারেন।
Wednesday, November 4, 2015
ঈদ উপলক্ষে তাদের স্ট্যাটাস!
পশুরা বোবা তাই এরা কিছু বলতে বা লিখতে পারে না। কিন্তু পশুরা যদি লিখতে পারত তবে কেমন হতো কোরবানী নিয়ে তাদের স্ট্যাটাস সেটাই এখন জানাচ্ছেন- রবিউল ইসলাম সুমন
উট : আমরা হইলাম উচ্চমার্গীয় জাতি। কারণ আমরা ফরেনে
থাকি। কিন্তু এখানকার বাজার ব্যবস্থা খুবই খারাপ। কারণ আমাদের রাখা হয়েছে দেশি গরু-ছাগলের
পাশের সারিতে। প্রেস্টিজ পুরা পাংচার হয়া গেলরে...!
গরু : মালিক আমার লগে একটা সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড
দিছিল। সঙ্গে সঙ্গেই তার বন্ধুরা কমেন্ট করতে লাগল, দোস্ত এখানে গরু কোনটা?
শেষমেশ
কি-না মানুষের সঙ্গে আমার তুলনা? ছিঃ! নিজেদের মান-সম্মান বলে দেখছি আর
কিছুই অবশিষ্ট থাকল না!
ছাগল : মানুষ বলে ফেসবুকে নাকি ছাগলের সংখ্যা দিন দিন
বেড়ে যাচ্ছে! কই, আমাদের তো কোনো ফেসবুক আইডি নাই। তাহলে আমাদের নামে যারা ফেসবুক চালাচ্ছে
তারা নিঃসন্দেহে ফেইক আইডি বোঝা যাচ্ছে। অতএব বন্ধুরা সাবধান!!
মুরগি : গত ঈদে বেশ টেনশনে ছিলাম। এবার আমাদের ওপর কোনো
চাপ নেই। সো আগামী ঈদ পর্যন্ত একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে চলাফেরা করতে পারব! তবে খারাপ
লাগছে আমার কিছু চার পা-ওয়ালা ফ্রেন্ডের জন্য। তাদের উদ্দেশে বলছি, বন্ধুরা
টেনশনের কিছু নাই। জন্মেছি যখন তখন একবার না একবার মরতেই হবে। বেঁচে থাকলে আবার
দেখা হবে। তোমাদের জন্য অঢেল শুভ কামনা।
ভেড়া : সারাবছর বাজারের মাংসের দোকানগুলোতে খাসির নামে
আমাদের কোরবান করা হলেও ঈদের সময়টাতে অন্তত আরামে থাকতে পারি। কারণ ক্রেতাদের কাছে
আমাদের চাহিদা খুব একটা নেই বললেই চলে। সো ফিলিং রিলাক্স!
প্রথম প্রকাশ: প্যাঁচআল, দৈনিক সমকাল
(২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫)
ছবি দেখে বিভিন্ন থানার নাম শেখা!
বাংলাদেশের বিভিন্ন থানার নাম হয়তো আপনি শুনেছেন। কিন্তু ছবিতে কি কখনো দেখেছেন সেগুলোর চিত্র কেমন হয়? না দেখে থাকলে এক্ষুণি মিলিয়ে নিন! আইডিয়ায় ছিলেন- বিভোর মাহমুদ, আর ছবি এঁকেছেনে- রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: প্যাঁচআল, দৈনিক সমকাল
(২ নভেম্বর ২০১৫)
Subscribe to:
Posts (Atom)




