Saturday, June 25, 2016

ছাত্র কখন মেধাবী হয়?

সব মেধাবীরাই ছাত্র হয়, কিন্তু সব ছাত্রই মেধাবী হয় না। এমন কিছু সময় আসে যখন সব ছাত্ররই পরিচিতি ছড়ায় মেধাবী হিসেবে। ভাবছেন সেটা আবার কখন? তো চলুন দেখে আসি।
  • দুর্ঘটনায় আহত হলে আপনি যতই খারাপ ছাত্র হন না কেন সবাই আপনাকে মেধাবী ছাত্র হিসেবেই আখ্যায়িত করবে।
  • আপনি পড়ালেখা করেন আর নাই করেন, যখন আপনার বিয়ের সম্বন্ধ আসবে তখন অপর পক্ষের কাছে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে মেধাবী ছাত্র হিসেবে।
  • হঠাৎ নিঁখোজ হয়ে গেলে শুনবেন আপনার চেয়ে মেধাবী ছাত্র পুরো তল্লাটে আর দ্বিতীয় কেউ ছিল না।
  • পরীক্ষার রেজাল্টের পর আপনি যত বিষয়েই ফেল করুন না কেন, রেজাল্ট পাবলিশের আগে আপনি নিজেকে মেধাবী ছাত্র হিসেবে দাবি করতেই পারেন।
  • সিনেমায় নায়ক-নায়িকারা জীবনে কোনোদিন বই-খাতা ধরুক আর নাই ধরুক পড়ালেখার ক্ষেত্রে দেখবেন অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে দেশ-বিদেশের বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করে ফেলছে।
  • বন্ধুদের আড্ডায় আপনি নিজেকে মেধাবী ছাড়া অন্যকিছু ভাবতেই পারবেন না।
  • অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে আপনার অবস্থা যখন প্রায় যায় যায় হবে তখন দেখবেন আপনার গার্ডিয়ান থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী সবাই আপনাকে ছাত্র হিসেবে মেধাবীই মনে করছে।
  • প্রেমে ব্যর্থ হয়ে নেশাগ্রস্ত বা অন্য কোনো বিপথে চলে গেলে দেখবেন লোকজন বলাবলি করছে ছেলেটা তো আগে অনেক মেধাবীই ছিল।
  • বিশ্বাস করেন আর না-ই করেন, যারা চশমা ব্যবহার করে তাদের বেশির ভাগ মানুষই মনে করে অনেক মেধাবী।
  • অর্থ সংকটের কারণে আপনার পড়ালেখা স্থগিত হয়ে গেলে শুনবেন দেশ থেকে একটা মেধাবী ছাত্র হারিয়ে গেল।
  • ফেসবুকের অ্যাবাউট চেক করলে দেখা যাবে দেশের প্রায় ৯৯.৯৯ পার্সেন্ট ইউজারই ছাত্র হিসেবে নিজেদের অত্যন্ত মেধাবী লিখে রেখেছে।

লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(২৫ জুন ২০১৬)

Thursday, June 23, 2016

টিকেট পাওয়ার পরে আরো যা কিছু করা যেত...



খবরে প্রকাশ, টিকেট পেয়ে খুশিতে অনেকেই টিকেটের সাথে সেলফি তুলে আনন্দ উদযাপন করছেন। তো আর কী উপায়ে টিকেট পেয়ে আনন্দ উদযাপন করা যেত চলুন দেখে নিই।

  • টিকেট পাওয়ার পর একটা মাইক ভাড়া করে সবাইকে সেটা জানাতে পারেন। শব্দদূষণ যাতে কম হয় এজন্য হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করলে মন্দ হয় না।
  • আগের দিনের রাজা-বাদশাদের মতো শাহী এলানের মাধ্যমে আপনি টিকেট পেয়েছেন- এটা সবাইকে জানাতে পারেন।
  • ব্যান্ড পার্টির আয়োজন করেও টিকেট প্রাপ্তির আনন্দ আরো বাড়িয়ে নিতে পারেন।
  • সবাইকে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে আপনি যে টিকেট পেয়েছেন সেটা জানিয়ে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন।
  • খালি দেয়াল আর বাসে পোস্টারিং করে নিজের টিকেট প্রাপ্তির কথাটা সবাইকে জানাতে পারেন।
  • পোস্টারিংয়ের আইডিয়া পছন্দ না হলে হেলিকপ্টার ভাড়া করে তার ওপর থেকে লিফলেট ছড়িয়ে আপনার টিকেট প্রাপ্তির বিষয় সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করতে পারেন।
  • চাইলে পেপারে নিজের ছবিসহ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে আনন্দ উৎযাপন করতে পারেন।
  • জন্মদিনের মতো কেক কেটেও কিন্তু চাইলে টিকেট পাওয়ার আনন্দ উৎযাপন করা যায়।
  • প্রয়োজনে সাংবাদিক ডেকে আপনার টিকেট প্রাপ্তির খবর দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
  • এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। শুধু ফেসবুক কেন? আরো যত মাধ্যম আছে, যেমন ইউটিউব, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম- এসবেও টিকেটের সাথে ছবি দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন।

লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১৮ জুন ২০১৬)

Monday, June 20, 2016

খাবারের যত ভুল নাম...


— চার ভাগের সাড়ে তিন ভাগই আলু এমন খাবারের নাম রাখা হয় ডিমের চপ!
— ছিলে খাওয়ার প্রয়োজন নেই তবু সেই খাবারের নাম হচ্ছে ছোলা
— পেঁয়াজের অস্তিত্ব অণুবীক্ষণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না তার নাম পেঁয়াজু
— পেঁপে, শিম, ধুন্দল যা দিয়েই বানানো হোক, নাম তার হয়ে যায় বেগুনি
— সুতার অস্তিত্ব নেই তারপরও নাম সুতী কাবাব
— একই ভাবে জাল ছাড়াই তৈরি হচ্ছে জালি কাবাব
লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১৮ জুন ২০১৬)

Thursday, June 16, 2016

অজ্ঞান পার্টি!


প্রথম প্রকাশ: ঘোড়ারডিম, দৈনিক কালেরকণ্ঠ
(১৪ জুন ২০১৬)

Wednesday, June 15, 2016

অটোরিকশা মিটারে না গেলে আপনি যা করতে পারেন...

বারে বারে আইন করে সিএনজি অটোরিকশা মিটারে চলার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা একেবারেই মেনে চলছেন না দেশের সিংহভাগ অটোরিকশাচালক। তো, এমতাবস্থায় আপনি কী করতে পারেন, তা-ই এখন জানাচ্ছেন— রবিউল ইসলাম সুমন


— গুজব ছড়িয়ে দিন, সামনেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম টহল দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। এতে শাস্তি আর জরিমানার ভয়ে সে মিটারে যেতে রাজি হয়ে যাবে।
— গুজবে কাজ না হলে নিজেই বনে যান মোবাইল কোর্টের সদস্য। এর পর আর আপনাকে মিটারে না নিয়ে যেতে চাইবে এমন সাহস আছে কার!
— নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলুন, সিএনজি মিটারে যাচ্ছে না, এটা নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে এসেছেন। দেখবেন, তখন ভয় পেয়ে সবাই আপনাকে মিটারে নিয়ে যেতে চাইবে।
— মিটারে যেতে না চাইলে হুট করে পকেটের মোবাইলটি বের করে সিএনজিওয়ালার ছবি বা ভিডিও তোলা শুরু করুন। সে মিটারে যাচ্ছে না, এটা আপনি অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ছড়িয়ে দেবেন ভেবে সহজেই মিটারে চলতে রাজি হয়ে যাবে।
— হাতে একটা কলম আর নোটপ্যাড নিয়ে সিএনজির নম্বরটি টুকে রাখার অভিনয় করুন। বেচারা আপনাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোক ভেবে ভয়ে মিটারে নিয়ে যেতে রাজি হবে।
— ‘এই সিএনজি মিটারে যেতে চায় না’ এমন স্টিকার বা পোস্টার সঙ্গে নিয়ে ঘুরুন। এবার কেউ মিটারে না গেলে সেটা তার সিএনজিতে এঁটে দেবেন—এমন কথা বললেই দেখবেন সে যেতে রাজি হয়ে গেছে!
— স্বপ্নে দেখেছেন, মিটারে না গেলে অটোরিকশা অ্যাক্সিডেন্ট করবে—এমন কথা ‘সিএনজি’ওয়ালার সামনে বলুন। নিজের প্রাণের মায়ায় হলেও সে আপনাকে মিটারে নিয়ে যেতে রাজি হবে।
— নিজেকে যোগাযোগমন্ত্রীর আত্মীয় দাবি করে সিএনজিতে উঠুন। দেখবেন সিএনজিওয়ালা এমনিতেই মিটারে চলতেছে!
— টিভিতে দেখেছেন সিএনজি মিটারে গেলে সরকার র‌্যাফেল ড্রর মাধ্যমে সিএনজিওয়ালাদের বাড়ি, গাড়ি, স্বর্ণালংকার গিফট করবে, এমন কথা বলে দেখুন। আশা করা যায়, সিএনজিওয়ালা আপনাকে জোর করে হলেও মিটারে নিয়ে যাবে!

লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১৫ জুন ২০১৬)