Wednesday, February 15, 2012

এক বিকেলে ললনার পিছে...


নিয়মিত কলেজে যাওয়া-আসা করলেই যে ভালো ছাত্র হওয়া যায় না, আমিই তার বাস্তব উদাহরণ! পড়ালেখায় ততটা ভালো না হলেও কোনো দিন কলেজে যাওয়া মিস করিনিশুক্রবার এমনকি যেকোনো সরকারি ছুটির দিনেও আমি কলেজ প্রাঙ্গনে উপস্থিত থাকতাম! এর মানে এই নয় যে, স্যারদের লেকচার বা বন্ধুদের কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করার জন্য কলেজে যেতামমূলত ভাব মারার জন্যই প্রতিদিন একবার হলেও কলেজ পাড়ায় উঁকি দিয়ে আসতাম! তো রোজকার মত একদিন শুক্রবারেও কলেজে গেলামগিয়ে দেখলাম কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছেআর তাই কলেজে না ঢুকতে পেরে কলেজের পাশে ফুটপাতের এক দোকান থেকে চা খেয়ে সেখান থেকেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলামসেদিনের আবহাওয়া ছিল অনেকটা মেঘলা টাইপেরআর তাই বাসার দিকে অল্প কিছু পথ পাড়ি দিতে না দিতেই দুর্যোগের ঘনঘটার সম্মুখীন হলামঅর্থাৎ মেঘ না চাইলেও তখন বৃষ্টির এসে হাজিরঅবশ্য এর জন্য আমাকে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়নিকারণ আমার কলেজ ব্যাগে বই-খাতার কোনো চিহ্ন না থাকলেও সবসময়ই একটা ছাতা উপস্থিত থাকতকাজেই মেঘের আভাস পাওয়ার সাথে সাথে ছাতাটা আগেই মাথার ওপর তুলে ধরলামঅতঃপর ছাতা মাথায় কয়েক পা সামনে যেতে না যেতেই এক রোমান্টিক দৃশ্য দেখার সুযোগ পেলাম! দেখলাম আমার সামনে দিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে এক তরুনী হেঁটে যাচ্ছেমেয়েটির চেহারা সামনাসামনি না দেখলেও সে যে বিরাট সুন্দরীই হবে এতে আমার কোনো সন্দেহ নেইকারণ তার গায়ের লাল রঙের ফতুয়া, মাথার দিঘল কালো কেশ, কানের দুল, হাতের বালা আর বৃষ্টি ভেজা শরীর দেখেই মেয়েটির সৌন্দর্য অনুমান করা যাচ্ছিলআবার দেখলাম হাঁটার সুবিধার্থে মেয়েটি তার পায়ের জুতা গুলো খুলে হাতে নিয়ে নিজের কোমড় দুলাতে দুলাতে হাঁটছেযা আমার চোখে শুধু সুন্দরই নয়, বহুত অপূর্ব লাগছে! এখন ঠিক করলাম, যে করেই হোক আমাকে ওই মেয়ের চেহারাটা একবার দেখতেই হবেতো কথা না বাড়িয়ে আমি দ্রুত মেয়েটির পিছে পিছে হাঁটা ধরলামকিন্তু একি! মেয়েরা যে এত জোরে হাঁটতে পারে তা আমার জানা ছিল না। (আর জানা থাকবেই বা কী করে? পূর্বে কোনো দিন এভাবে কোনো মেয়ের পিছু নেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই কিনা!) এরপর আস্তে আস্তে উপলদ্ধি করতে লাগলাম, আমি এক পা এগুলেই মেয়েটি আমাকে দুই পা পেছনে ফেলে আগে চলে যাচ্ছে! এ দিকে ভেজা পায়ে দ্রুত হাঁটার কারণে আমার পা বার বার স্লিপ কাটছেযার ফলে উপায় না দেখে আমিও মেয়েটির মত নিজের জুতাগুলো পা থেকে খুলে হাতে নিয়ে নিলামএরপর জুতাগুলো বগলতলে নিয়ে আবারো মেয়ের পেছনে হাঁটা ধরলামকিন্তু হায়...! খালি পায়ে যখন দুই কদম সামনে গেলাম তখন মনে হচ্ছিল আমি বুঝি সীতার অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছি! সেদিনই প্রথম আমার পা মাটিতে পড়েছিলএখন আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি ভীষণ অহংকারী টাইপের একজন মানুষ! এ কারণেই বোধহয় আজকের আগে কোনো দিন আমার পা মাটিতে পড়েনি, তাই না? আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়ছোটবেলা থেকেই আমার ভীষণ স্যান্ডেল পরার অভ্যাস ছিলআর এ কারণেই আমার পা আজীবন স্যান্ডেলের ওপরই পড়েছেএজন্যই বললাম, আমার পা আগে কখনো মাটিতে পড়েনি!
যাই হোক, পিচঢালা রাস্তায় নিজের পা পড়তেই ব্যথায় গরম হয়ে আমার পা দুটি লাল হয়ে গেছেমনে হচ্ছে এক্ষুনি বুঝি ফোসকা পড়ে যাবে পায়েউপায় না দেখে বাধ্য হয়েই বগলের তল থেকে নামিয়ে জুতাগুলো আবার পায়ে পড়ে নিলামএরপর যথারীতি হাঁটা শুরু করলাম মেয়েটির পিছু পিছুপ্রায় মিনিট পাঁচেক হাঁটার পর দূর থেকে দেখলাম মেয়েটি রাস্তার পাশে ফুটপাতের এক চায়ে দোকানে ঢুকলভাবলাম বৃষ্টিতে ভিজে মেয়েটির শরীর হয়তো ড্যামেজ... মানে ঠান্ডা হয়ে গেছে তাই বোধহয় সে শরীরটা একটু চাঙা করার জন্য চা খেতে দোকানে ঢুকেছেআর তাই দেরি না করে আমিও দ্রুত মেয়ের পেছন পেছন দোকানে ঢুকে গেলামকিন্তু এবারও আমি চেহারা না দেখে কেবল মেয়ের পেছন সাইডটাই দেখার সুযোগ পেলামসে আমাকে পেছন ফেলে দোকানদারের সাথে কথা বলছেআর এ দিকে আমি এক নজরে তাকিয়ে আছি মেয়ের দিকে সে দোকান থেকে কী কিনছে এটা দেখার জন্য এবং মনে মনে অপেক্ষা করছি মেয়েটি দোকানদারের কাছ থেকে ঘুরে কখন পেছন ফিরে আমার দিকে তাকাবে এর জন্যআমি অবাক হলাম তখন যখন দেখলাম মেয়েটি টাকা দিয়ে দোকানদারের কাছ থেকে দুটি বেনসন সিগারেট কিনল!
সে যাই হোক, মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে, 'আধুনিক মেয়ে তো তাই তাদের ৯৯% ভালো শুধু ১% খারাপ আরকি'! আর তার ১% খারাপটাই হলো এই সিগারেট খাওয়ামনে হয় ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান অধিকার কায়েম করার জন্যই আজকালকের মেয়েরা সিগারেট খায়! তো আমি এসব ভাবতে ভাবতে দেখলাম মেয়েটি দোকানদারের কাছ থেকে সিগারেট কেনা শেষ করে পেছন দিকে অর্থাৎ, আমার দিকে ফিরলদীর্ঘ সময়ের প্রতিক্ষার পর অবশেষে আমি তার চেহারা মোবারক প্রদর্শনের সুযোগ পেলাম! কিন্তু একি! চেহারা দেখে যে আমি পুরাই টাশকি খেয়ে গেলাম!! যতটা শক্‌ আমি ওনার সিগারেট খাওয়ার কথা শুনে খেয়েছিলাম তারচেয়ে হাই ভোল্টেজের শক্‌টা মনে হয় এখনই খেলাম
ভাবছেন মেয়েটির চেহারা বেশ ভয়ঙ্কর ছিল, তাই না? আরে না, ব্যপারটা আসলে সেরকম কিছু নয়
হয়েছে কী...
মেয়ে ভেবে আমি এতক্ষণ যার পিছু নিতে নিতে এ পর্যন্ত আসলাম সে তো আসলে কোনো মেয়েই নয়! চেহারা দেখে বুঝলাম, মেয়ের বেশে ইনি আসলে ২০-২২ বছরের একজন ফ্যাশনেবল যুবক!!!
লেখক : সুমন আহমেদ
প্রথম প্রকাশ : দৈনিক নয়াদিগন্ত, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২

Tuesday, February 14, 2012

ভালবাসা এবং একটি প্রতিজ্ঞা


শুনেছি প্রেমে পড়লে মানুষ গরুছাগলগাধাভেড়া আরো কত্ত কি হয়! তবে আমি কিন্তু এগুলোর একটিও হইনি। কারণআমি তো এখনো প্রেমেই পড়িনি! তো প্রেমে না পরার পেছনে বড়-সড় তেমন কোনো কারণ না থাকলেও ছোটখাটো ১টা কারণ অবশ্যই আছে। আর তা হলো আমি এবং আমার এক বন্ধু দুজনে মিলে একটা যৌথ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যেজীবনে যত কিছুই করি না কেন আমরা কখনো প্রেম করব না। বন্ধুটি অবশ্য একজনের কাছ থেকে বিশাল টাইপের এক ছ্যাঁকা খেয়ে এরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর আমি...?
তেমন কিছুই নাআসলে বন্ধুর মুখ থেকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে ভারী ভারী সব ডায়লগ শুনতে শুনতে এত্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম! অবশ্য আমি কিন্তু আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনিকারণ, আমি আবার দুই কথার লোক! অর্থ্যাৎ, সকালে এক কথা বললে বিকেলে আরেক কথা বলে ছাড়ি! বিশেষ করে আমি যা বলি তা না করতেই বেশি আনন্দ পাই! তো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের প্রধান কারণই ছিল প্রেমএকদিন কোত্থেকে যেন প্রেম নামক এই বস্তুটা উড়ে এসে ধপাস করে আমার মনে বাসা বাঁধলহঠাৎ করেই আমার ক্লাশে পড়য়া এক মেয়েকে আমার ভালো লাগতে শুরু করলআর এই ভালো লাগাই যে ভালোবাসা তা আজকাল ফিডার খাওয়া শিশুরাও জানেতো যাই হোক, মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়েই আমি মেয়েটার প্রেমে একেবারে দিওয়ানা হয়ে গেলামআমি রীতিমত তার প্রেমের স্যুইমংপুলে ডুবে ডুবে জল খাওয়া আরম্ভ করে দিলাম! এখন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা আমার মনটা সিলিংফ্যানের মত তার পেছনে ঘুরঘুর করতে লাগলআমার ধারনা মেয়েটাও আমার প্রেমের সাগরে গড়াগড়ি দিতে শুরু করেছেকারণ, তার আচার-আচরণ আর ভাষা-ব্যাকরণে আমি এমনটাই যে আভাস পাচ্ছিলাম! এমন পরিস্থিতিতে আমার জয়গায় এখানে অন্য কেউ হলে হয়তো তার ভালোবাসার মানুষের জন্য এতদিনে নতুন কোনো গান আবিষ্কার করে ফেলতেনআমিও  গান গাইতে চেয়েছিলাম কিন্তু গলার যে বেহাল দশা তাতে করে এত্ত বড় রিস্ক নেওয়ার সাহস পাইনি! যাই হোক, এতটা দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও  আমি তাকে আমার মনের কথাটা খুলে বলতে পারিনিআর যেহেতু মেয়েরা 'বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না' নীতিতে বিশ্বাসী তাই ওর কাছ থেকে আগে অফার পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে নাতো এভাবে আর কত? ভাবলাম মুখে না হোক অন্তত  চিঠি লিখে হলেও তাকে আমার মনের কথাটা জানানো উচিতযেই ভাবা সেই কাজতবে চিঠিটা লিখতে একটু লেট হয়ে গিয়েছিলকারণ, আমি চিঠি লেখার আগেই একদিন রাতে সে আমাকে ফোন করল। (এ যেন মেঘ না চাইতেই শিলা, বৃষ্টি, বজ্রপাত আরো কত্ত কি!) সে বলল, 'সুমন তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে'আমি বললাম, 'কি কথা বলো'? সে বলল, 'মোবাইলে বলতে পারব নাসামনা-সামনি বলতে হবেতুমি কাল সকালে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে'? জবাবে আমি কি আর না বলতে পারি! বললাম পারবতারপর স্পটের নাম বলেই সে ফোন রেখে দিলোসেদিন তার কথা ভাবতে ভাবতেই আমি সারাটা রাত পার করে দিলাম



দুই.

কাল সাতটা বাজেআমি জীবনেও এত সকালে ঘুম থেকে উঠি নাই! তবে আজ উঠেছি শুধুমাত্র তার সাথে দেখা করার জন্যঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে সেজে-গুজে তার সাথে দেখা করার জন্য রওনা দিলামপথে এক ফুলওয়ালার কাছ থেকে অনেক রিকোয়েস্ট করে ৫ টাকার ১টা আধমরা গোলাপ ৩ টাকায় কিনতে সক্ষম হলাম। (আফ্‌টার অল প্রেম-ভালোবাসার বিষয় ফুল ছাড়া খুব একটা জমে না কিনা!) এরপর ফুলটা প্যান্টের পকেটে রেখে তার সমনে উপস্থিত হলামভাবলাম সে যখনই 'আই লাভ ইউ' বলবে তখনই ফুলটা বের করে তাকে দিবআর এই উদ্দেশ্যে আগেই নিজের ডান হাতটা পকেট বরাবর রেডি করে রাখলামকিন্তু আফসোস্‌! সে আমাকে ভালোবাসার কথা বলার জন্য এখানে ডাকেনিডেকেছে আমার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার চাওয়ার জন্য! মোবাইলে টাকা ধার চাইলে হয়ত আমি নানান বাহানা তৈরি করে ফেলতাম, এটা ভেবেই মনে হয় সে মোবাইলে টাকা ধার না চেয়ে এভাবে সরাসরি আমাকে এমন বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করেছেউপায় না দেখে অবশেষে প্রেস্টিজ পাংচারের ভয়ে পকেট থেকে ৫০০ টাকার ১টা কড়কড়ে নোট বের করে ওর হাতে দিলামটাকা হাতে নিয়ে সে বলল, 'তুমি রাগ করনি তো'? তখন বুক ভরা হাহাকার থাকা সত্ত্বেও ঠোঁট দুটি কিঞ্চিত বাঁকা করে মুখে হাসির ভাব ফুটিয়ে বললাম, 'আরে না রাগ করব কেন'? 'আরো লাগলে তুমি আমাকে বলো' এটাও বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু যদি সত্যি চেয়ে বসে এই ভয়ে কথাটা আর মুখ থেকে বের করিনি!
সেই দিনটি ছিল ১৩ই ফেব্রুয়ারিভাবলাম পরেরদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবসএদিন মানুষ তার ভালোবাসার মানুষের জন্য কত কিছুই তো করেআর আমি না হয় আজ আমার ভালেবাসার মানুষের জন্য এই ৫০০ টাকাই বিসর্জন দিলামকথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইতিমধ্যেই সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিলোসাথে নিয়ে গেল আমার দেওয়া ৫০০ টাকা কড়কড়ে নোটটি! অন্যদিকে আমার পকেটে রয়ে গেল আধমরা সেই লাল গোলাপটিসে যতক্ষনে গেল, ততক্ষনে আমার এই আধমরা গোলাপটি পুরোই মৃত ঘোষিত হলো! ইন্নালিল্লাহে... রাজেউন!!

তিন.

জ ১৪ই ফেব্রুয়ারিঅর্থাৎ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসহঠাৎ করেই প্রিয়ার (ভালোবাসার মানুষ) সাথে আমার দেখা হয়ে গেলদেখা হতেই সে নিজ থেকে গতকালের টাকা ধার দেওয়ার জন্য আমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাল আর বলল, কেন টাকা ধার নিয়েছিলাম তা জনতে চাইলে না?  যদিও আগ্রহ নেই তবুও বললাম, কেন নিয়েছ? বলল, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে একটা ফতুয়া গিফট করার জন্যই টাকাটা ধার নিয়েছিলাম! কথাটা শোনা মাত্রই যেন মনে মনে খুশিতে লাফ দিয়ে আমি মাটি থেকে প্রায় ২ ফুট উপরে উঠে গেলাম! (আমি আবার লাফা-লাফিতে প্রচন্ড রকমের দুর্বলযদি সবল হতাম তাহলে এতদিনে অলিম্পিক গেমসে নাম লিখিয়ে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটা সোনার মেডেল আনার ব্যবস্থা করে ফেলতাম না!) যেহেতু আমার ধরণা ছিল যে, প্রিয়ার ভালোবাসার মানুষ একমাত্র আমিইতাই এতটা খুশি হয়েছিলম আর কি! অতঃপর বললাম, তা ফতুয়া কি কেনা হয়েছে? সে বলল, অবশ্যই এবং সেটি তাকে দিয়েই তো বাসায় ফিরছিএবার আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, তাকে... মানে কাকে? জবাবে সে বলল, তোমার বন্ধু আরিফ! এই কথা শুনে আমি অবাক হবো না কি হবো এটা বুঝে ওঠার আগেই প্রিয়া বলল, আরিফ আজ বিকেলে আমাকে চাইনিজ খাওয়াবেতুমি কি আমাদের সাথে যেতে পারবে? মুখে বললাম, না কাজ আছেআর মনে মনে বললাম, শালা ভাবলাম কি আর হইলো কি? ব্যাটা নিজেই নিজের প্রতিজ্ঞা ভেঙে বসে আছে! এখন তোদের সাথে চাইনিজে গিয়ে আমার কোনো লাভ নেইশেষে যদি দুজনে আবেগের বসে আমাকেই খাওয়ার বিল দিতে অনুরোধ করে তবে আমি চোখে সর্ষে, সূর্যমুখী ছাড়াও আরো কত্ত যে বাহারি রকমের ফুল দেখব তার কোনো ইয়াত্তা নেই! ভালোবাসা পাইনি তো কি হয়েছে ভবিষ্যতে পাবো; কিন্তু টাকা খরচ হলে তা আর পাওয়া যাবে না! সেদিন এত্ত বড় একটা শক্‌ খাওয়ার পরও আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েনিতবে নিজের মাথায় অন্যের কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার হালকা আভাস যে পাইনি তা কিন্তু নয়সাথে পেয়েছিলাম হৃদয় পোঁড়ানোর কিঞ্চিত দুর্গন্ধ! এ ঘটনার পর আমি মনে মনে শুধু এতটুকুই চেয়েছি, প্রিয়া যেন আমার পাওনা টাকা সময়মত শোধ করে দেয়নয়তো আমি আম আর ছালা তো বটেই সাথে বড়া আর খোসাও হারাবো!
অতঃপর আমি আবার আমার সেই চিরচেনা প্রতিজ্ঞা করলাম যে, জীবনে যত কিছুই করি না কেন আর কখনো প্রেমের পথে পা বাড়াবো নাতবে এবারো আমি আমার এই প্রতিজ্ঞায় পুরোপুরি অটল থাকতে পারব কিনা এ ব্যপারে কোন গ্যারেন্টি নেইকারণ, চোখ যেহেতু আছে সেহেতু আবারো যেকোনো সময় যে কাউকে ভালো লাগতেই পারে! পাঠক, আপনারা কি বলেন?
লেখক : সুমন আহমেদ
প্রথম প্রকাশ : নয়াদিগন্ত, ২০১০

Monday, February 13, 2012

ফ্রি সমাচার!


ফ্রি'র যুগে ফ্রি ছাড়া
পন্য কিনতে নাই
মাছ-মাংস তরকারিতে ও
ফ্রি থাকা চাই

মাংস কিনলে হাড্ডি ফ্রি
ছাঁই পাওয়া যায় মাছে
চিপস কিনলে ট্যাটু মিলবে
বিক্রেতাদের কাছে!

সাবানের সাথে আয়না ফ্রি
পেষ্টের সঙ্গে ব্রাশ
চা-পাতায় চামচ আর
গুঁড়ো দুধে ফ্রি গ্লাস

ফ্রি'র পিছে ছুটতে ছুটতে
মানুষ হচ্ছে পাগল
লঞ্চ ডুবিতে মারা গেলে
ফ্রি পাওয়া যায় ছাগল!

দেখে নিন ২০ বছর পর কেমন হবে আপনার চেহারা!


মি আজ আপনাদের সাথে যে সফটওয়্যার নিয়ে কথা বলবো তার নাম Prophecy Master। হয়তো এই সফটওয়্যারের নাম আপনারা অনেকেই শুনেছেন। যদি শুনে থাকেন বা এটি নিয়ে আগে কোথাও পোস্ট হয়ে থাকে তবে আমি দুঃখিত। আমি এর আগে একবার একটি ব্লগে এটি নিয়ে পোস্ট দেখেছিলাম। কিন্তু আফসোস সেটি ছিলো ট্রায়াল ভার্সন তাই ওই পোস্ট দেখে এতটা খুশি হতে পারিনি। আর তাই বহু জায়গা ঘুরে Prophecy Master এর ফুল ভার্সন খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তাতে ও বিফল হলাম। আবশেষে আমার এক বন্ধুর কাছে পেয়ে গেলাম এর ফুল ভার্সন! Prophecy Master সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি আপনার আজকের চেহারাকে ২০ বছর পর কেমন দেখা যাবে তা দেখে নিতে পারবেন তা ও মাত্র ২টি ক্লিক করে! তাহলে এবার দেখে নিন কীভাবে এই কাজটি করবেন –
প্রথমে Prophecy Master সফটওয়্যারটি এখান থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।  (Download Password : pchelplinebd.com) এরপর ডেস্কটপে আসা “ProphecyMaster” শর্টকাট আইকনে ডাবল ক্লিক করে সফটওয়্যারটি ওপেন করুন। এবার Load Image এ ক্লিক করে একটি ইমেজ লোড করে Next ক্লিক করুন। ব্যাস আপনার কাজ শেষ! এবার মিলিয়ে দেখুন ২০ বছর পর কেমন হবে আপনার চেহারা!! আপনি চাইলে Save বাটনে ক্লিক করে ছবিটি সংরক্ষন করতে পারবেন।

বিঃদ্রঃ সফটওয়্যারটি ফুল ভার্সন করার প্রক্রিয়া এর সাথে দেওয়া একটি PDF ফাইলে দেখানো হয়েছে।

Thursday, February 9, 2012

জ্যান্ত ভূত!

মাদের গ্রামের গেদা চাচা একদিন কাজের খোঁজে শহরে গেলেন। ঘুরতে ঘুরতে তার সন্ধা হয়ে গেলো এক রেল স্টেশনের কাছে। দোকান থেকে সামান্য চিড়াগুড় খেয়ে তিনি থাকার সন্ধান করতে করতে আবার চলে আসলেন রেল রাস্তার পাশে। সারাদিন হেঁটে পরিশ্রম করে শরীরটা বড়ই পরিশ্রান্ত। তখন তার চোখে এসে ভর করছে রাজ্যের একরাশ ঘুম। কিন্তু কোথায় ঘুমাবেন তা চিন্তা করতে করতে তিনি দেখতে পেলেন রেল স্টেশনের সামান্য দূরে চারজন মানুষ চাদর গায়ে শুয়ে আছেন। বেশি কিছু না ভেবে গেদা চাচা ও ওই চারজনের মাঝে একটু ফাঁক পেয়ে সেখানেই শুয়ে পড়লেন। একটি বিড়ি ধরিয়ে ভাবছেন বাড়ির কথা। স্ত্রী সন্তানদের কথা। তখন ছিলো প্রচুর মশা, তাই তাকে মশায় কাঁমড়াচ্ছে। তিনি হাত দিয়ে মশা তাড়াচ্ছেন আর অবাক হয়ে দেখছেন তার দুই পাশের কাউকেই মশায় কাঁমড়াচ্ছে না! আবার তাদের কারোর-ই কোন সাড়া-শব্দ ও নেই। তারা কেউই এক চুল পরিমান ও নড়াচড়া করছেন না। ইতিমধ্যেই গেদা চাচা চাঁদের আলোয় দেখতে পেলেন দুই পুলিশ অফিসার কথা বলতে বলতে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছেন। প্রায় কাছে এসেই এক পুলিশ অফিসার থমকে দাঁড়ালেন এবং তিনি বলতে লাগলেন, আরে… লাশ রেখে গেলাম চারটা আর এখন দেখি পাঁচটা! ব্যাপার কী? অপর পুলিশ অফিসার ও চমকে গিয়ে বললেন, তাইতো! পাঁচ নাম্বারটা তাহলে ভূত নাকি? এদিকে পুলিশের কথা-বার্তা শুনে গেদা চাচার অবস্থা খারাপ। তার মনে পড়লো তিনি আজ কোথায় যেন শুনেছেন রেল দূর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে। তারমানে তিনি এখন শুয়ে আছেন সেই মরা মানুষদের মাঝে! হঠাৎ তিনি চিৎকার করে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। এদিকে পুলিশেরা তাকে ভূত মনে করে স্টেশনের দিকে ঝেড়ে দিলেন এক দৌড়! নিরাপদ আশ্রয়ের ভয়ে গেদা চাচা ও পুলিশদের পেছন পেছন দৌড়াচ্ছেন। আর ওদিকে পুলিশেরা চাচাকে ভূত মনে করেই প্রাণের ভয়ে আরো জোরে জোরে দৌড়াতে লাগলেন!!