Wednesday, September 21, 2016

সোশ্যাল মিডিয়া হাসপাতাল!



সোশ্যাল মিডিয়া এখন সবার কাছেই যোগাযোগের জনপ্রিয় একটা মাধ্যম। আর হাসপাতাল হচ্ছে সবার খুবই প্রয়োজনীয় একটা জায়গা। তো এই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড যদি সোশ্যাল মিডিয়ার নামের সঙ্গে মিলিয়ে নামকরণ করা হতো, তবে কোন ওয়ার্ড কেমন এবং কিসের জন্য ব্যবহৃত হতো চলুন দেখে আসি

গুগল রিসিপশন
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং রোগীদের যাবতীয় তথ্য খুঁজে বের করার জন্য এটা বেশ কাজে লাগত!
ফেসবুক কেবিন
ফেসবুকের সেলিব্রিটি আর নন-সেলিব্রিটিদের মতো এখানে থাকবে ভিআইপি আর সাধারণ রোগীদের জন্য আলাদা আলাদা কেবিন বা থাকার ব্যবস্থা।
ইউটিউব ওটি
যেখান থেকে অপারেশনের চিত্র টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে লাইভ রোগী বা হাসপাতালের অন্যান্য মানুষদের দেখানো হবে রোগীর হালচাল।
প্রিন্টারসেট বিল সেকশন
হাসপাতালের যাবতীয় বিল এবং ওষুধের তালিকা প্রিন্ট করার জন্য ব্যবহৃত হবে ওয়ার্ড।
লাইন কাউন্টার
যেখানে ডাক্তারের সিরিয়াল পাওয়ার জন্য রোগীদের দাঁড়াতে হবে লম্বা লাইনে!
টুইটার ডেস্ক
রোগীর রিলিজ বা ডিসচার্জ বার্তা দেওয়া হতে পারে হাসপাতালের এই ডেস্ক থেকেই।

লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬)

Friday, September 9, 2016

গরুর হাটের জন্য, দরকারি সব পণ্য!

জমে উঠেছে গরুর হাট। আপনি নিশ্চয়ই হাটে যাওয়ার কথা ভাবছেন? যদি তাই হয় তবে হাটে যাওয়ার আগে আপনাকে কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হতে পারে চলুন দেখে আসা যাক :

বুট জুতা
মানুষের জন্য পাবলিক টয়লেট থাকলেও গরুর জন্য তো আর নেই। তাই গরুরা যেখানে সেখানে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারে। কিন্তু গরুর গোবরে পা দিয়ে যেন সাড়ে সর্বনাশ না হয় সেজন্য হাটে যাওয়ার আগে আপনাকে মোটামুটি ভালো মানের একজোড়া বুট জুতা পরে বের হতে হবে। এ ছাড়া এটি আপনাকে রাস্তার কাঁদা আর নোংরা পানির হাত থেকেও বাঁচাতে সক্ষম হবে।
মুখের মাস্ক
যেখানে সেখানে আবর্জনা আর গরু-ছাগলের মলমূত্র ফেলার কল্যাণে হাটের চারপাশে তো বটের আশপাশের দূর-দূরান্ত পর্যন্ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আর এই দুর্গন্ধের কবল থেকে বাঁচতে হলে সব জানতে না হলেও অন্তত মুখে মাস্ক পরাটা আপনাকে জানতেই হবে!
বডি স্প্রে
শুধু নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবলেই হবে? আশপাশের মানুষের কথা ভাবতে হবে না? আপনার গায়ের বিশ্রী দুর্গন্ধ শুকে যেন আশপাশের মানুষ ও হাটের গরুরা বেহুশ হয়ে না পড়ে এ জন্য অবশ্যই আপনাকে গায়ে ভালো কোনো কোম্পানির বডি স্প্রে মেখে হাটে যেতে হবে।
ঢাল
গরু আমাদের শুধু দুধ-মাংসই দেয় তা কিন্তু নয়, মাঝে মাঝে কিন্তু গুঁতাও দেয়! গরুর গুঁতা খাওয়া থেকে বাঁচতে হলে ঢাল হিসেবে আপনাকে পিঠে ছালা নয়তো স্টিলের থালা বেঁধে যেতে হবে। নইলে কিন্তু গুঁতা খেয়ে ফিলিংস ভোতা হয়ে যাবে!
পেইনকিলার
গরুর হাটে যাবেন আর গরুর লাথি খাবেন না তা কি হয়? আর লাথি খেলে আপনার হাঁড়-মাংস তো বটেই গিড়ায় গিড়ায় পর্যন্ত ব্যথা করবে। আর তাই ব্যথা রোধে আগাম পেইনকিলার ম্যানেজ করে রাখতে পারেন নিজের পকেটে।
লেখা ও আঁকা: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬)

অলিম্পিকে আমরা কেন সোনা পাই না...

শেষ হয়েছে খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক। তো, এই অলিম্পিকে বাংলাদেশ কখনোই সোনার মেডেল অর্জন করতে পারেনি। কেন পারেনি? সেটার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিচে দেওয়া হলো। দয়া করে এতে কেউ কিছু মনে করবেন না। এটি একটি সোনায় মোড়ানো মজা মাত্র! তো, চলুন জানি কেন আমরা সোনা জিতি না অলিম্পিকে।

১. আমাদের দেশে সোনার ছেলের কোনো অভাব নেই। আর তাই সোনার ছেলেদের চোখে সোনার মেডেল তুচ্ছ খনিজ পদার্থ বৈকি আর কিছুই নয়। এ জন্য তারা সোনা জিততে অনাগ্রহী বলা যায়।
২. দেশের বিমানবন্দরে দুদিন বাদে বাদেই বিপুল পরিমাণে সোনা আটকের খবর পাওয়া যায়। আর তাই নতুন করে সোনা জিতে এনে নিউজ ছড়ানোর আগ্রহ কেউ প্রকাশ করছে না।
৩. দেশের চোর-ছেচ্ছর আর ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে হাতের সোনার আংটি কিংবা গলার সামান্য সোনার চেইন নিয়েই রাস্তায় চলা মুশকিল। আর তাই সোনা জিতলেও সেটা নিয়ে থাকতে হবে নানান ভয়ে। এ জন্য সোনা জেতায় পিছিয়ে আছে সবাই।
৪. কয়েক দিন পরপরই টিভিতে সোনার মূল্য কমতে দেখা যায়। আর তাই অল্প দামের সোনা জেতার পরিশ্রমটাই বৃথা, এ রকম ভেবেই হয়তো কেউ সোনা জিততে চাইছে না।
৫. যে দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি হয়, সে দেশে সামান্য সোনার মেডেল জিতে কী হবে? এ জন্যই কেউ সোনা জিততে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
৬. আমাদের দেশে সোনার মেডেলের চেয়ে সোনার হরিণ... মানে চাকরিজীবীদের সম্মান অনেক বেশি। আর তাই সোনার মেডেল ছেড়ে সবাই সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ভালোবাসে বলেই অলিম্পিকের সোনাকে কেউ পাত্তা দিচ্ছে না।
৭. অনেকেই আছেন বেশ প্রচারবিমুখ। আর সোনা জিতলে যদি তাকে মিডিয়ার সামনে ঘন ঘন ইন্টারভিউ দিতে হয়, এ ভয়েই কেউ সোনা জিততে চাইছে না।
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(২৭ আগষ্ট ২০১৬)

প্রেমিকা দিবসে যা হতে পারে...

আগে কাকের চেয়ে কবির সংখ্যা বেশি ছিল। আর এখন দিনের চেয়ে দিবস বেশি। মানে বছরের ৩৬৫ দিনের প্রায় প্রতিটি দিন তো বটেই, একই দিনে একাধিক দিবস অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এলো প্রেমিকা দিবস! তো, এই দিবসে কী কী হতে পারে, চলুন দেখে আসি। সঙ্গে আছেন— রবিউল ইসলাম সুমন

— প্রপোজ করলেই প্রেমিকা হয়ে যাবে—এমন তত্ত্ব অ্যাপ্লাই করতে গিয়ে গালে বায়োমেট্রিকের ছাপ নিয়ে ফিরবে অনেক সিঙ্গেল পোলাপান!
— প্রেমিকার এক্সট্রা আবদার পূরণ করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে ঘুরতে দেখা যাবে অনেক প্রেমিক পুরুষকেই।
— ডেটিং করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে কাউকে কাউকে আবার দেখা যাবে হোটেলের থালাবাসন মাজতে!
— পার্ক ও লেকের আশপাশের জায়গাগুলো দিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাকে নিয়ে হাঁটাচলা করা মুশকিল হয়ে দাঁড়াবে!
— যাঁদের প্রেমিকা নেই, তাঁরা ফ্যামিলি-পরিজন থাকার পরও এই দিনটাতে নিজেকে মনে করবে একজন অনাথ কিংবা এতিমের মতো!
— রিকশাওয়ালাদের ডিমান্ড অনেক বেশি থাকবে। প্রেমিকার সঙ্গে রিকশা ভাড়া করতে গেলে দেখবেন, একেকজন রিকশাওয়ালার ভাব আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়েও বেড়ে গেছে।
— বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও আপনার পরিবার ভাববে, আপনি প্রেমিকার সঙ্গেই টাংকি মেরে এসেছেন! প্রেমিকাসমেত এলাকার কারো চোখে ধরা পড়ে গেল আপনি যত ভালো ছেলেই হোন না কেন, সবার চোখে খারাপই প্রমাণ হয়ে যাবেন।
— মা-বাবার কাছে হাত খরচের টাকা চাইলেও তাঁরা আপনাকে সন্দেহ করে বসবে যে প্রেমিকার পেছনে টাকা ওড়াতে যাচ্ছেন!
প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১ আগষ্ট ২০১৬)

Wednesday, July 13, 2016

সুলতানি রিভিউ!

নায়কের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নায়িকার প্রথম দেখা হয়, তা আমরা বহু বাংলা সিনেমায় দেখেছি। ‘সুলতান’-এও এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যদিও ‘সুলতান’ কোনো বাংলা সিনেমা নয়, তবুও সালমানের সঙ্গে আনুশকার প্রথম দেখা হয় স্কুটির সঙ্গে ধাক্কা লাগার মাধ্যমেই। এর পর লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট হয়ে যায়। নায়ক নায়িকার পিছে পিছে ঘুরতে থাকে। বাট নায়িকা তাকে পাত্তা দেয় না। আর দেবেই বা কেন? নায়িকা যে আর দশটা সিনেমার নায়িকার মতো ঘরে বসে শাবানা-ববিতার মতো থালাবাসন মাজা, কাপড় কাচা আর পরের কাপড় সেলাই করা মহিলা না! সে একজন রেসলার। আর তাই নায়কের ইনডিরেক্ট প্রপোজের সঙ্গে সঙ্গেই তার গালে বায়োমেট্রিকের ছাপ... মানে কষে একটা থাপড় মেরে বসে। এতে করে নায়কের আত্মসম্মানবোধ জেগে ওঠে। প্রতিজ্ঞা করে, সেও একদিন রেসলার হয়ে অলিম্পিকের মেডেল এনে সবাইকে দেখিয়ে দেবে।
ব্যস, শুরু হয়ে গেল তার রেসলিং জীবন। একসময় সে স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়। নায়িকা নিজের ভুল বুঝতে পেরে নায়ককে স্যরি বলে রিস্ক না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে করে ফেলে। বিয়ের পরে আর দশটা নায়িকার মতোই আগের পেশা ভুলে গিয়ে সে সংসারে মনোযোগী হয়। তাদের ঘরে সন্তান আসার সময় হয়। নায়ক তত দিনে রেসলিং ম্যাচ জিততে জিততে নিজেকে দেশসেরা বানিয়ে ফেলেছে। এবার তার অলিম্পিক উদ্ধারের পালা! এই কয়দিনে তার মাঝে একটা অহংকার ঢুকে পড়ে। যার ফলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বেয়াদবি আর একজনকে লাইভ থাপড় মেরে বসে। ফলে মিডিয়াগুলো তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। একদিকে নায়কের ঘরের প্রথম সন্তান আসার ডেট নিকটে আসে, অন্যদিকে তার অলিম্পিক বিজয়ের সময় চলে আসে। নায়িকা ওরফে তার ওয়াইফ তাকে বহু রিকোয়েস্ট করে সন্তান আগমনের সময় যেন সে তার পাশে থাকে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বউয়ের আকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে সে অলিম্পিকে অংশ নিতে চলে যায়। ফিরে আসে বীরের বেশেই। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
এসে দেখে, তার সন্তান দুনিয়ায় নাই। রক্তের অভাবে সে মারা গেছে। যেখানে ফেসবুকে পোস্ট করলে আজকাল শত শত ব্লাড ডোনার মিলে যায়, সেখানে তারা সমগ্র ভারতবর্ষ ঘুরেও ব্লাড জোগাড় করতে না পারার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নায়ক ওরফে সুলতান এতে ভীষণ কষ্ট পায়। আর ঠিক সে মুহূর্তেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হতে নায়িকাও তাকে ছেড়ে চলে যায়। তবে একেবারে দুনিয়া ছেড়ে নয় কিন্তু। সে চিরদিনের জন্য তার বাপের বাড়িতে চলে যায়। নায়ক তখন সিদ্ধান্ত নেয়, জীবনে আর কোনোদিন রেসলিং না খেলার।
নায়ক এখন পুরোদমে চাকরিজীবী। অফিসে কাজ করে আর সবার কাছ থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা তোলে তার গ্রামে একটি ব্লাড ব্যাংক খোলার জন্য, যাতে করে কেউ আর রক্তের অভাবে মারা না যায়। এ জন্য সে এক রাজনীতিবিদের পিছে ঘোরে। বাট রাজনীতিবিদ বলে কথা, সহজে কিছু করে দেওয়ার তো কথা না! তাই সে নায়ককে হয়ে যাবে হয়ে যাবে বলে আশারবাণী শোনায় আর ঘোরায়। এদিকে, ইন্টারন্যাশনাল রেসলিং চ্যাম্পিয়নের এক আয়োজক নায়কের সঙ্গে দেখা করে। তাকে টাকা দিয়ে কিনতে চায়, কিন্তু নায়কের কী আর টাকার লোভ আছে নাকি? তাই সে ভদ্রলোককে খালি হাতেই ফিরিয়ে দেয়। নায়কের বন্ধুর কাছে অতীত জীবনের কাহিনী শুনে ভদ্রলোক আবার নায়কের কাছে ফেরত আসে। নায়ককে ইমোশনাল করে ব্লাড ব্যাংক খোলার টাকা ম্যানেজ করে দেবে এমন এ-কথা ও-কথা বলে তার মন নরম করে চলে যায়। ফলে দুদিন বাদে নায়ক গাট্টি-বোঁচকাসমেত শহরে সেই ইন্টারন্যাশনাল রেসলিং চ্যাম্পিয়নের আয়োজকের সঙ্গে দেখা করতে রওনা দেয়।
প্রায় সাত বছর নায়ক রেসলিং থেকে বিদায় নিয়ে অফিসে বসে বসে কাজ করেছে। এ জন্য তার ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যান্য আয়োজক আর স্পন্সর এটা মানতে নারাজ। নায়কের ভুঁড়ি দেখে তারা হাসাহাসি করে এবং তাকে আনফিট বলে ঘোষণা দেয়। নায়ক এতে কষ্ট পায়। আবার আগের মতো ফিট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সবাই বলে, এটা বেসম্ভব! কিন্তু তারা তো আর জানে না, সিনেমার নায়কদের ডিকশনারিতে অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই। যার ফলে সে এক সপ্তাহের মধ্যে কিছুটা ফিট হয়ে যায়। এর পর চলতে থাকে তার ইন্টারন্যাশনাল রেসলিংয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি। মোটামুটি মাসখানেকের মধ্যে সে পুরোপুরি ফিট হয়ে আবার রেসলিং দুনিয়ায় প্রবেশ করে। তার পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো একেকটা ম্যাচ জিততে জিততে সে ফাইনালে পৌঁছে যায়। আর প্রতিটি ম্যাচেই দেশের মানুষের ভালোবাসা কুড়াতে কুড়াতে সে আগের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেমিফাইনালে খেলতে গিয়ে নায়কের শরীরের একটা হাড় ভেঙে গিয়েছিল। তাই ডাক্তার থেকে শুরু করে খেলার আয়োজক পর্যন্ত তাকে আর না খেলার পরামর্শ দেয়। কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসার খাতিরে সে তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ফাইনালে মাঠে নামবে বলেই সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে, এত দিন দূরে থাকলেও নায়কের সাফল্য আর হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনে নায়িকা অতীতের সবকিছু ভুলে গিয়ে আবারও তার কাছে চলে আসে। নায়কের কাছ থেকে ওয়াদা নেয়, যেন ফাইনাল তো জিতবেই, সঙ্গে যেন জীবিত ফিরে আসে।
এখানে দর্শকের মনে সিনেমার শেষ অংশে নায়ক মরে যাবে বলে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন দেখার পালা দর্শকের ধারণা কতটুকু সত্য হয়। যাই হোক, নায়ক ‘হ্যাঁ’ সূচক মাথা নাড়ে। এর পর ফাইনালে খেলতে যায়। ফাইনালটা আগেরবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিস্টেম না হয়ে অনেকটা টেস্ট ফরম্যাটের হয়। নায়ক অনেক মার খায়। শেষমেশ আর সহ্য করতে না পেরে সে একেবারে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সবাই ভাবল, নায়ক ম্যাচ তো হারছেই, সঙ্গে বুঝি মরেও গেছে। কিন্তু না, মানুষের দোয়া আর ভালোবাসায় সে ক্ষণিকের জন্য ফ্ল্যাশব্যাকে যায় এবং সুপার পাওয়ার নিয়ে ফিরে আসে! এর পর ম্যাচ শেষ, নায়ক বিজয়ী ঘোষিত হয়। নায়ক সবার সামনেই নায়িকাকে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নেয়। পরের দৃশ্যেই তাদের গ্রামে ব্লাড ব্যাংক উদ্বোধনের ফিতা কাটতে দেখা যায়। সবাই হাততালি দেয়। অতঃপর আর কী, তাহারা আবারও সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলেন!

প্রথম প্রকাশ: এনটিভি (অনলাইন)
(১২ জুলাই ২০১৬)