Wednesday, March 11, 2015
ঘোড়ার ডিম বিক্রেতা!
পত্রিকার দোকান থেকে পত্রিকা না কিনলেও পত্রিকার সঙ্গে দেওয়া ম্যাগাজিনগুলো ঠিকই কিনতাম নিয়মিত। আর তাই পত্রিকা বিক্রি করা অনেক হকারের সঙ্গেই বেশ ভালো খাতির হয়ে গেছে। সে সুবাদে যেদিন ম্যাগাজিন বের হয় সেদিন না গিয়ে দু-তিন দিন পরে দোকানে গেলেও পত্রিকাওয়ালারা আমার জন্য ম্যাগাজিনগুলো রেখে দিতেন। একদিন এক দোকানে গিয়ে দেখলাম, আমি যার কাছ থেকে ম্যাগাজিন কিনতাম সে নেই। বদলে এক বয়স্ক লোক বসে আছেন দোকানে। আমাকে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বয়স্ক লোকটি জিজ্ঞেস করলেন কোনো পেপার লাগবে নাকি? আমি বললাম, না, পেপার লাগবে না। তবে ঘোড়ার ডিম থাকলে একটা দিতে পারেন। কথা শুনে ভদ্রলোক আকাশ থেকে পড়লেন! তিনি বললেন, আজব! ঘোড়ায় আবার ডিম পাড়ে নাকি? আর পাড়লেও কি তা পেপারের দোকানে পাওয়া যাওয়ার কথা? যাও মুদি দোকানে গিয়ে খোঁজ করো! ভদ্রলোক একটু উচ্চ স্বরেই কথাগুলো বলছিলেন। ওনার কথা শুনে আশপাশে আরো তিন-চারজন জড়ো হয়ে গেল। ওনারা হয়তো ভাবছেন, আমি পাগলের প্রলাপ বকছি! দু-একজন অলরেডি মিটি মিটি হাসা শুরু করে দিলেন। এমন সময় যে ছেলেটির কাছ থেকে রেগুলার ম্যাগাজিন কিনতাম, সে এসে হাজির। আমাকে দেখে বলল, ভাইয়া, ম্যাগাজিন নিতে এসেছেন বুঝি? কোনটা কোনটা দেব? আমি বললাম, একটা ঘোড়ার ডিম দিলেই হবে। ছেলেটি পেপারের নিচ থেকে একটা ঘোড়ার ডিম বের করে আমার হাতে দিল। এবার সেই বয়স্ক লোকটি আমার হাতের ম্যাগাজিনটার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থেকে বলল, ওহ! ঘোড়ার ডিম তাইলে একটা ম্যাগাজিনের নাম! আমি বললাম, জি চাচা। এটা কালের কণ্ঠের একটা ম্যাগাজিন। ভদ্রলোক লাজুক একটা হাসি দিলেন। এরপর আমি পত্রিকার স্টল ত্যাগ করার সময় শুনতে পেলাম, বয়স্ক লোকটি তার ভাতিজাকে উদ্দেশ করে বললেন, তুই তাইলে আইজকাল ঘোড়ার ডিমও বেচস!
লেখক: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: ঘোড়ার ডিম, দৈনিক কালের কন্ঠ (২২ ফেব্রয়ারি ২০১৪)
হরতালের গোলমালে!
থাকব না'ক বদ্ধ ঘরে
দেখব এবার জগৎটাকে...
ছোটবেলায় পড়া কবিতার এই লাইন দুটি একেবারে ফেভিকলের আঠার মতো মনের মধ্যে গেঁথে আছে বন্ধু আসিফের! আর তাই সে ঘরের চেয়ে বাইরে ঘুর ঘুর করে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করে। যেকোনো সভা-সমাবেশ আর রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে আসিফের থাকা চাই-ই চাই। এর মানে এই নয় যে সে একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ বা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য। আসিফ এগুলো করে বেড়ায় দু-চার পয়সা ইনকাম আর পেট পুরে এক বেলা খাওয়ার আশায়!
আসিফের মুখে শুনেছি, এসব সভা-সমাবেশ আর মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেই নাকি নানা কিসিমের খানাখাদ্য আর কিছু পয়সাপাতিও পাওয়া যায়। আর এসবের লোভে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব দলের মিছিল-মিটিংয়েই যোগদান করত সে।
আসিফের ভাষ্য মতে, সে একজন সাহসী পাবলিক। আর তাই বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রথম সারিতেই তার অবস্থান। হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভের মতো বড় বড় কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বও নাকি দেয় সে। আর প্রতিটি কর্মসূচির পর পরই এগুলোতে তার সাহসিকতার অবদান তুলে ধরে বন্ধু মহলের সামনে। কোন হরতালে কয়টা গাড়ি পুড়িয়েছে, ইটের আঘাতে কয়জন পুলিশকে আহত করেছে এবং কয়টা রিকশার হাওয়া ছেড়েছে- এসব ঘটনা অবলীলায় বলে বেড়ায় বন্ধুদের সামনে। আর এ ঘটনাগুলোই নাকি তার অতি সাহসিকতার নমুনা!
যা-ই হোক, একদিন আসিফ বন্ধু মহলে হরতালের দাওয়াত দিল। মানে রাজপথে মিছিল, ভাঙচুর আর পিকেটিংয়ের নেমন্তন্ন আর কী! আসিফ জানায়, এবারের হরতাল বেশ কড়াকড়ি হবে, তাই এর জন্য অনেক লোকের দরকার। তাছাড়া মিছিলে উপস্থিত থাকলেই নাকি জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং এক বেলা খাওয়ারও ব্যবস্থা আছে। দারুণ সুখবর! বন্ধু মহলের সবাই যেহেতু বেকার, তাই ভেবেছিলাম এমন আকর্ষণীয় অফার পেয়ে মিছিলে যেতে সকলে এক পায়ে খাঁড়া থাকবে। কিন্তু না। পরিবারের নিষেধাজ্ঞা আর হামলা-মামলার ভয়ে কেউই আসিফের প্রস্তাবে রাজি হলো না। একমাত্র আমিই রাজি হয়ে গেলাম আসিফের সঙ্গে হরতালের মিছিলে যোগ দিতে। মিছিল করলে টাকা পাব এর জন্য নয়, আমি রাজি হয়েছি বন্ধু আসিফ এত দিন নিজের সাহসিকতার যে গল্পগুজব করে আসছে, সেগুলো কত ভাগ সত্য এটা নিজ চোখে দেখতে।
কথামতো হরতালের দিন সকালে দেখা করলাম বন্ধু আসিফের সঙ্গে। হরতালের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আসিফ। আমাকে দেখে ব্যানারটি ধরে দাঁড়াতে বলল সে। আমিও তা-ই করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ-খানেক লোক জড়ো হয়ে গেল মিছিলে যোগ দিতে। আমি আর আসিফ ছিলাম একেবারে প্রথম সারির মাঝামাঝি। ইতিমধ্যেই এলাকার কিছু বড়ভাই ওরফে দলীয় নেতা-কর্মী এসে যোগদান করলেন আমাদের সঙ্গে। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো, এলাকা থেকে মিছিলটি বের করে শহরের বিভিন্ন অলিগলি আর সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমরা যেন আবার নিজ এলাকায়ই সমবেত হই।
বড়ভাইদের নির্দেশে মিছিল নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলাম আমরা। মিছিলটি এলাকার গলি ছেড়ে মূল সড়কের কাছে যেতেই হঠাৎ শোনা গেল বিকট শব্দ। আর এই শব্দ শুনে কান দুটি একেবারে গরম হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল আমাদের চারপাশ। বুঝতে বাকি নেই যে আশপাশে কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। আর তাই মিছিলে উপস্থিত সবাই এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগল। দেখলাম, আসিফও প্রাণের ভয়ে আমাকে রেখেই দিল ভোঁ-দৌড়। কিন্তু বেচারা খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি। দুই কদম সামনে যেতেই হোঁচট খেয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আমি গিয়ে তাকে টেনে তুললাম। মাটি থেকে উঠে আসিফ আমাকে বলল, দোস্ত... শিগগির পালা। আমাদের মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে। বাঁচতে চাইলে এখনই পালাতে হবে। এই বলে সে আবারও দৌড় দিতে চাইল। কিন্তু পারল না। আমি তাকে থামালাম। অবাক হলো আসিফ। বলল, তোর কি জীবনের মায়া নেই? বললাম, আছে। ও এবার রেগেমেগে চেঁচিয়ে উঠল, তাহলে পালাচ্ছিস না কেন? আমি ওপরের দিকে হাত উঠিয়ে তাকে আসল ব্যাপারটা দেখালাম আর বললাম- তোরা যেটাকে বোমা বিস্ফোরণ মনে করেছিস এটা আসলে বোমা না! এটা ছিল বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের শব্দ!
শুনে বেশ অবাক হলো আসিফ। সাথে একটু লজ্জাও পেল মনে হয! এরপর সে ওপরে তাকিয়ে বলল, আরে তা-ই তো! দেখ দেখ... এখনো থেমে থেমে আগুনের ফুলকি আর ধোঁয়া বের হচ্ছে ট্রান্সফরমার থেকে!
দেখব এবার জগৎটাকে...
ছোটবেলায় পড়া কবিতার এই লাইন দুটি একেবারে ফেভিকলের আঠার মতো মনের মধ্যে গেঁথে আছে বন্ধু আসিফের! আর তাই সে ঘরের চেয়ে বাইরে ঘুর ঘুর করে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করে। যেকোনো সভা-সমাবেশ আর রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে আসিফের থাকা চাই-ই চাই। এর মানে এই নয় যে সে একজন সংস্কৃতিমনা মানুষ বা কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য। আসিফ এগুলো করে বেড়ায় দু-চার পয়সা ইনকাম আর পেট পুরে এক বেলা খাওয়ার আশায়!
আসিফের মুখে শুনেছি, এসব সভা-সমাবেশ আর মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেই নাকি নানা কিসিমের খানাখাদ্য আর কিছু পয়সাপাতিও পাওয়া যায়। আর এসবের লোভে সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব দলের মিছিল-মিটিংয়েই যোগদান করত সে।
আসিফের ভাষ্য মতে, সে একজন সাহসী পাবলিক। আর তাই বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রথম সারিতেই তার অবস্থান। হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভের মতো বড় বড় কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বও নাকি দেয় সে। আর প্রতিটি কর্মসূচির পর পরই এগুলোতে তার সাহসিকতার অবদান তুলে ধরে বন্ধু মহলের সামনে। কোন হরতালে কয়টা গাড়ি পুড়িয়েছে, ইটের আঘাতে কয়জন পুলিশকে আহত করেছে এবং কয়টা রিকশার হাওয়া ছেড়েছে- এসব ঘটনা অবলীলায় বলে বেড়ায় বন্ধুদের সামনে। আর এ ঘটনাগুলোই নাকি তার অতি সাহসিকতার নমুনা!
যা-ই হোক, একদিন আসিফ বন্ধু মহলে হরতালের দাওয়াত দিল। মানে রাজপথে মিছিল, ভাঙচুর আর পিকেটিংয়ের নেমন্তন্ন আর কী! আসিফ জানায়, এবারের হরতাল বেশ কড়াকড়ি হবে, তাই এর জন্য অনেক লোকের দরকার। তাছাড়া মিছিলে উপস্থিত থাকলেই নাকি জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং এক বেলা খাওয়ারও ব্যবস্থা আছে। দারুণ সুখবর! বন্ধু মহলের সবাই যেহেতু বেকার, তাই ভেবেছিলাম এমন আকর্ষণীয় অফার পেয়ে মিছিলে যেতে সকলে এক পায়ে খাঁড়া থাকবে। কিন্তু না। পরিবারের নিষেধাজ্ঞা আর হামলা-মামলার ভয়ে কেউই আসিফের প্রস্তাবে রাজি হলো না। একমাত্র আমিই রাজি হয়ে গেলাম আসিফের সঙ্গে হরতালের মিছিলে যোগ দিতে। মিছিল করলে টাকা পাব এর জন্য নয়, আমি রাজি হয়েছি বন্ধু আসিফ এত দিন নিজের সাহসিকতার যে গল্পগুজব করে আসছে, সেগুলো কত ভাগ সত্য এটা নিজ চোখে দেখতে।
কথামতো হরতালের দিন সকালে দেখা করলাম বন্ধু আসিফের সঙ্গে। হরতালের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আসিফ। আমাকে দেখে ব্যানারটি ধরে দাঁড়াতে বলল সে। আমিও তা-ই করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ-খানেক লোক জড়ো হয়ে গেল মিছিলে যোগ দিতে। আমি আর আসিফ ছিলাম একেবারে প্রথম সারির মাঝামাঝি। ইতিমধ্যেই এলাকার কিছু বড়ভাই ওরফে দলীয় নেতা-কর্মী এসে যোগদান করলেন আমাদের সঙ্গে। আমাদের নির্দেশ দেওয়া হলো, এলাকা থেকে মিছিলটি বের করে শহরের বিভিন্ন অলিগলি আর সড়ক প্রদক্ষিণ করে আমরা যেন আবার নিজ এলাকায়ই সমবেত হই।
বড়ভাইদের নির্দেশে মিছিল নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকলাম আমরা। মিছিলটি এলাকার গলি ছেড়ে মূল সড়কের কাছে যেতেই হঠাৎ শোনা গেল বিকট শব্দ। আর এই শব্দ শুনে কান দুটি একেবারে গরম হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল আমাদের চারপাশ। বুঝতে বাকি নেই যে আশপাশে কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। আর তাই মিছিলে উপস্থিত সবাই এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগল। দেখলাম, আসিফও প্রাণের ভয়ে আমাকে রেখেই দিল ভোঁ-দৌড়। কিন্তু বেচারা খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি। দুই কদম সামনে যেতেই হোঁচট খেয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। আমি গিয়ে তাকে টেনে তুললাম। মাটি থেকে উঠে আসিফ আমাকে বলল, দোস্ত... শিগগির পালা। আমাদের মিছিলে বোমা হামলা হয়েছে। বাঁচতে চাইলে এখনই পালাতে হবে। এই বলে সে আবারও দৌড় দিতে চাইল। কিন্তু পারল না। আমি তাকে থামালাম। অবাক হলো আসিফ। বলল, তোর কি জীবনের মায়া নেই? বললাম, আছে। ও এবার রেগেমেগে চেঁচিয়ে উঠল, তাহলে পালাচ্ছিস না কেন? আমি ওপরের দিকে হাত উঠিয়ে তাকে আসল ব্যাপারটা দেখালাম আর বললাম- তোরা যেটাকে বোমা বিস্ফোরণ মনে করেছিস এটা আসলে বোমা না! এটা ছিল বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের শব্দ!
শুনে বেশ অবাক হলো আসিফ। সাথে একটু লজ্জাও পেল মনে হয! এরপর সে ওপরে তাকিয়ে বলল, আরে তা-ই তো! দেখ দেখ... এখনো থেমে থেমে আগুনের ফুলকি আর ধোঁয়া বের হচ্ছে ট্রান্সফরমার থেকে!
লেখক: রবিউল ইসলাম সুমন
প্রথম প্রকাশ: ঘোড়ার ডিম, দৈনিক কালের কন্ঠ (২৩ ডিসেম্বর ২০১২)
মোবাইল দিয়ে ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করার সবচাইতে সহজ ট্রিকস!
ট্রিকসটা অনেক পুরনো। তারপরও দেখি অনেকে ইনবক্সে বা বিভিন্ন ভাবে জানতে চায় ইউটিউবের ভিডিও কিভাবে ডাউনলোড করা যায়? সবাইকে একই উত্তর দিতে দিতে মুখ আর হাত ব্যথা হওয়ার উপক্রম! তাই ভাবলাম এবার ট্রিকসটা লিখে রাখা যাক! তো আর বকবক না করে মূল পোস্টে গেলাম...
মোবাইল থেকে ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করতে হলে প্রথমে যেই ভিডিওটি ডাউনলোড করতে চান তার লিংকটি কপি করুন। আগে থেকে কোনো ভিডিও'র লিংক কপি করা না থাকলে ইউটিউভে প্রবেশ করে এক্ষুণি সার্চ করে যেকোনো একটি ভিডিও'র লিংক কপি করে নিন। আপনার কপি করা লিংকটি হবে এরকম- www.youtube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU অথবা m.youtube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU এমন। এখানে পিসি থেকে লিংক কপি করলে লিংকের শুরুটা হবে www.youtube... আর মোবাইল থেকে কপি করলে হবে m.youtube... দিয়ে। তো লিংক কপি করার পর আপনাকে এটা একটু এডিট করতে হবে। এখানে আপনাকে www বা m এর পরে যে youtube কথটা লেখা আছে সেটা এডিট করে "y" এর আগে দুইটা "ss" বসাতে হবে। অর্থাৎ এডিট করার পর আপনার লিংকটি হয়ে যাবে www.ssyoutube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU এরকম।
এবার এই লিংকটি আপনার মোবাইলে থাকা যেকোনো ব্রাউজারের এড্রেসবারে কপি করে Enter বা Ok চাপুন। দেখবেন নতুন একটা পেইজ ওপেন হয়েছে এবং এই পেইজের নিচের আপনার সার্চ করা ভিডিও'র প্রিভিউ ও কয়েকটি ফরম্যাট দেখা যাচ্ছে। এই ফরম্যাট গুলোর যেকোনো একটাতে ক্লিক করলেই আপনার ভিডিওটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে।
নোট: সবচেয়ে ভালো হয় ডাউনলোডের জন্য আপনার মোবাইলের UC Browser ব্যাবহার করলে। কারণ এতে আপনি Cloud এবং Resume এই দুই ধরনের ডাউনলোডের এক্সট্রা সুবিধা পাবেন!
মোবাইল থেকে ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করতে হলে প্রথমে যেই ভিডিওটি ডাউনলোড করতে চান তার লিংকটি কপি করুন। আগে থেকে কোনো ভিডিও'র লিংক কপি করা না থাকলে ইউটিউভে প্রবেশ করে এক্ষুণি সার্চ করে যেকোনো একটি ভিডিও'র লিংক কপি করে নিন। আপনার কপি করা লিংকটি হবে এরকম- www.youtube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU অথবা m.youtube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU এমন। এখানে পিসি থেকে লিংক কপি করলে লিংকের শুরুটা হবে www.youtube... আর মোবাইল থেকে কপি করলে হবে m.youtube... দিয়ে। তো লিংক কপি করার পর আপনাকে এটা একটু এডিট করতে হবে। এখানে আপনাকে www বা m এর পরে যে youtube কথটা লেখা আছে সেটা এডিট করে "y" এর আগে দুইটা "ss" বসাতে হবে। অর্থাৎ এডিট করার পর আপনার লিংকটি হয়ে যাবে www.ssyoutube.com/watch?v=eCiqNP2EnCU এরকম।
এবার এই লিংকটি আপনার মোবাইলে থাকা যেকোনো ব্রাউজারের এড্রেসবারে কপি করে Enter বা Ok চাপুন। দেখবেন নতুন একটা পেইজ ওপেন হয়েছে এবং এই পেইজের নিচের আপনার সার্চ করা ভিডিও'র প্রিভিউ ও কয়েকটি ফরম্যাট দেখা যাচ্ছে। এই ফরম্যাট গুলোর যেকোনো একটাতে ক্লিক করলেই আপনার ভিডিওটি ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে।
নোট: সবচেয়ে ভালো হয় ডাউনলোডের জন্য আপনার মোবাইলের UC Browser ব্যাবহার করলে। কারণ এতে আপনি Cloud এবং Resume এই দুই ধরনের ডাউনলোডের এক্সট্রা সুবিধা পাবেন!
Sunday, August 19, 2012
একটি মিনি ঈদ উপন্যাস
মফিজ এবং কুলসুমের আব্বা
স্টার্ট। থ্রি... টু... ওয়ান... জিরো... এ্যাকশন!
ফুশ্... শ... শ...!! না এটা কোনো গাড়ীর টায়ার পাংচারের শব্দ নয়। নয় কোনো প্রকৃতির ডাকে সম্পাদনকৃত ছোট কর্মের আওয়াজ। এটা আসলে মফিজের মোবাইলের রিংটোন! সকাল বেলায় এই অদ্ভুত রিংটোনের শব্দে আরামের ঘুম হারাম করে অত্যন্ত বিরক্ত সহকারে চোখ কচলাতে কচলাতে মফিজ তার ফোনটা রিসিভ করল। অপর প্রান্তের কন্ঠ শুনে মফিজ বুঝতে পারল এটা তার প্রেমিকা কুলসুমের নাম্বার। এত্ত সকালে প্রেমিকা কুলসুমের ফোন পেয়ে মফিজ খুশি না হয়ে খানিকটা আতংকিত হলো। মনে মনে ভাবল কোনো অঘটন ঘটেনি তো?
কিন্তু না কোন অঘটন নয়। অপর প্রান্ত থেকে কুলসুম মিষ্টি হেসে বলল 'ঈদ মোবারক'।
কথাটা শুনে যেন মফিজের বাসার ছাদে ঝুলে থাকা সিলিং ফ্যানটা হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ল তার মাথায়। আজ যে ঈদ এটা মফিজের খেয়াল-ই ছিল না। (বারো মাস নামাজ-রোজার খবর না রাখলে যেমনটা হয় আর কী!) তো যা-ই হোক মফিজ তড়িঘড়ি করে কুলসুমকে বলল 'তোমাকে ও ঈদ মোবারক এবং শুভেচ্ছা'।
কুলসুম বলল, 'শুধু ঈদ মোবারক এবং শুভেচ্ছায় কিন্তু চলবে না'।
'কেন তোমাকে কি ঈদে অন্যকিছু দেওয়ার কথা ছিল নাকি?' মফিজের উত্তর।
কুলসুম বলল, 'হ্যা'।
এবার মফিজ তার গলার স্বরটা নিচু করে অনেকটা নিরীহ আদমের মতো বলল, 'বিশ্বাস করো, আজকের দিনে তোমাকে দেওয়ার মতো একটা ছেঁড়া দুই টাকার নোট ও আমার পকেটে নাই।'
কথাটা শুনে কুলসুম খিল খিলিয়ে হেসে জবাব দিল, 'আরে গাধা টাকা দিতে হবে না। আজ তোমাকে আমার আব্বার সাথে দেখা করতে হবে।'
'কেন বলতো?' মফিজ বলল।
'কেন আবার?' আব্বার সাথে আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার জন্য।' বলল কুলসুম।
এবার মফিজ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। বলল, 'ঠিক আছে আমি সকাল ১১টার মধ্যে তোমাদের বাড়িতে আসব।'
এরপর কথামত মফিজ বেলা ১১টায় কুলসুমের বাসায় হাজির হলো।
কুলসুম মফিজকে ড্রয়িংরুমে বসিয়ে দিয়ে সে ভিতরের রুমে চলে গেল। যাবার আগে কুলসুম মফিজকে বলল; 'শোনো, আমার আব্বা রুমে ঢুকেই তোমাকে কিছু প্রশ্ন করতে পারে। তিনি তোমার সম্পর্কে যা-ই জানতে চাইবে তুমি সবকিছু বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলবে। কেমন?'
'কেন বাড়িয়ে বলব কেন?' মফিজের উত্তর।
কুলসুম বলল, 'কেননা আমার আব্বা সবসময় কথা কম কাজ বেশি টাইপের লোকদেরকে একটু বেশি পছন্দ করেন, তাই।'
কুলসুম ভেতরের রুমে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই হঠাৎ যক্ষার রোগীর মতো কাশতে কাশতে কুলসুমের আব্বা ড্রয়িংরুমের দিকে অগ্রসর হলেন।
রুমে প্রবেশ করেই তিনি মফিজকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কেমন আছো বাবা?'
'খু... উ... ব... বেশি ভালো' বলল মফিজ।
কুলসুমের আব্বা: তোমার ফ্যামিলিতে কে কে থাকে?
মফিজ: বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী, ফুফু-খালা, চাচা-চাচী...
কুলসুমের আব্বা: থাক বাবা, বাদ দাও। শুধু বলো তোমরা কয় ভাই-বোন?
মফিজ: ১০ ভাই ১১ বোন।
কুলসুমের আব্বা: তোমার বাবা কী করেন?
মফিজ: আমার বাবা একটা আধাসরকারি অফিসের বিরাট বড় ম্যানেজার।
কুলসুমের আব্বা: তুমি লেখাপড়া করেছো কোথায়?
মফিজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাশ করছি।
কুলসুমের আব্বা: সকালে ঈদের নামাজ পড়েছো?
মফিজ: জি, জামায়াতের সাথেই চার রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করছি।
কুলসুমের আব্বা: (অবাক হয়ে) কয় রাকাত নামাজ পড়েছো?
মফিজ: কেন চার রাকাত।
কুলসুমের আব্বা: একটু ভেবে বলো?
মফিজ: জি, ভেবেই বলেছি। চার রাকাত নামাজই পড়েছি।
কুলসুমের আব্বা: বাবা, আমি তোমার পূর্বের সকল কথা মানলেও এই কথাটা কিছুতেই মানতে পারলাম না।
এবার মফিজ কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ল। সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না যে ঠিক কয় রাকাত নামাজ পড়ার কথা বললে কুলসুমের আব্বা খুশি হবেন।
মফিজকে এই অবস্থায় দেখে ভেতরের দরজার আড়াল থেকে কুলসুম হাত দেখিয়ে ইশারায় ২ রাকাত নামাজ পড়ার কথা বলল।
কুলসুমের এমন ইশারায় মফিজ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাগান্বিত স্বরে চেঁচিয়ে বলল, 'তোমার কি মাথা খারাপ? দেখছো না চার রাকাতের কথা বলেও তোমার বাবাকে খুশি করাতে পারছি না! যে লোক চার রাকাতে মানছে না সে লোক দুই রাকাতে সন্তুষ্ট হবে কী করে? যত্তোসব...!!'
এরপর নামাজের হিসাব মিলাতে মিলাতে মফিজ নিজের বাসায় উদ্দেশে পা বাড়াল। আর এ দিকে মফিজের চলে যাওয়ার দৃশ্যতে শুধুই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কুলসুম এবং তার আব্বা!
(সমাপ্ত)
প্রথম প্রকাশ: থেরাপি, নয়াদিগন্ত (১৫ই আগষ্ট ২০১২)
Subscribe to:
Posts (Atom)






