এনালগ যুগ মানে আগেকার যুগের অভ্যাস এবং
ডিজিটাল যুগ মানে বর্তমান যুগের অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন- রবিউল ইসলাম সুমন
এনালগ যুগ: ঘুম থেকে উঠে আমরা মুখ ধুইতাম।
ডিজিটাল যুগ: ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুকে ঢুকি।
এনালগ যুগ: খাবার আগে সবাই হাত ধুইত।
ডিজিটাল যুগ: খাবার আগে সবাই সেলফি তোলে।
এনালগ যুগ: বাসায় মেহমান এলে নাশতাপানি দিলে খুশি হইতো।
ডিজিটাল যুগ: বাসায় মেহমান এলে ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড বলে দিলে
বেশি খুশি হয়।
এনালগ যুগ: কাউকে দীর্ঘদিন না দেখলে বলতাম,
ছবি পাঠাইস।
ডিজিটাল যুগ: কাউকে কয়েক দিন না দেখলেই বলি, ভিডিও কল
দিস!
এনালগ যুগ: দরকারি কোনো ডকুমেন্টস লাগলে কুরিয়ার করতে বলতাম।
ডিজিটাল যুগ: দরকারি কোনো ডকুমেন্টস লাগলে বলি মেইল করতে।
এনালগ যুগ: নিজের পরিচিতি বাড়াতে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করা হইতো।
ডিজিটাল যুগ: পরিচিতি বাড়াতে ফেসবুক আর বিভিন্ন
ম্যাসেঞ্জারের লিংক শেয়ার করা হয়।
এনালগ যুগ: বিনোদনের জন্য মাঠে গিয়ে ক্রিকেট,
ফুটবল কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলত।
ডিজিটাল যুগ: বিনোদনের জন্য মোবাইলে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানস
কিংবা ক্যান্ডি ক্রাশ গেইম খেলে।
এনালগ যুগ: টাকা, কাপড়,
খাবার— এগুলোই সচরাচর মানুষ ভিক্ষা চাইত।
ডিজিটাল যুগ: লাইক,
কমেন্ট,
শেয়ার— এইগুলোই ইনবক্সে গিয়ে ভিক্ষা চায়।
এনালগ যুগ: কারো সঙ্গে কথা বলতে মন চাইলে বলত,
ফোন করিস।
ডিজিটাল যুগ: কারো সঙ্গে কথা বলতে মন চাইলে বলে, ম্যাসেঞ্জারে
নক দিস।
এনালগ যুগ: বন্ধুবান্ধবদের কাছে খাতা-কলম বা বই কেনার জন্য টাকা ধার চাইত।
ডিজিটাল যুগ: বন্ধুবান্ধবদের কাছে টাকা ধার চায় মোবাইলের
এমবি কেনার জন্য।
এনালগ যুগ: মুরব্বিদের সম্মান ও সবার কথা শুনে চললেই ভালো মানুষের উপাধি পাওয়া যাইত।
ডিজিটাল যুগ: ভালো মানুষের উপাধি পাইতে হইলে সবার স্টেটাসে
নিয়মিত লাইক-কমেন্ট করতে হয়!
এনালগ যুগ: যারা চলতে অক্ষম তারাই স্টিক নিয়া চলাফেরা করত।
ডিজিটাল যুগ: প্রায় সব বয়সের
লোকদেরই সেলফি স্টিক হাতে নিয়া ঘুরতে দেখা যায়।
প্রথম প্রকাশ: ঘোড়ার ডিম, কালের কণ্ঠ
(২৪ মে ২০১৬)


